![]() |
| Pic From Google news |
বাড়িভাড়া ও বাড়ির মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হাজারও পর্তুগিজ রাজধানী লিসবন ও দেশটির অন্যান্য শহরের সড়কগুলোতে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
দেশটিতে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির কারণে আবাসনে এই বাড়তি খরচ জোগাড় করা অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
“আবাসনকে ঘিরে মারাত্মক সংকট এখানে।
এটা সামাজিক জরুরি অবস্থা,” লিসবনের বিক্ষোভে এমনটাই বলেছেন হাভিতা হাউজিং গ্রুপের রিটা সিলভা।
পশ্চিম ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ পর্তুগালের শ্রমিকদের ৫০ শতাংশের বেশি গত বছর প্রতিমাসে গড়ে এক হাজার ইউরোর কম আয় করেছে বলে সরকারি তথ্যেই দেখা যাচ্ছে।
দেশটিতে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৭৬০ ইউরো।
২০১৫ সালের পর থেকে পর্যটকদের কাছে বেশ প্রিয় লিসবনে কেবল বাড়িভাড়াই ৬৫ শতাংশ বেড়েছে, বিক্রিযোগ্য বাড়ির দাম বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ, বলছে আবাসন সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করা কনফিডেনসিয়াল ইমোবিলিয়ারোর হিসাব।
কেবল গত বছরই লিসবনে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ৩৭ শতাংশ, যা বার্সেলোনা বা প্যারিসের চেয়েও বেশি বলছে রিয়েল এস্টেটের তথ্য নিয়ে কাজ করা কোম্পানি কাসাফারি।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে তরুণরা।
লিসবনে এখন এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের গড় ভাড়া এক হাজার ৩৫০ ইউরো বলে জানাচ্ছে হাউজিং পোর্টাল ইমোভার্চুয়ালের এক গবেষণা।
পর্তুগালের সোশালিস্ট সরকার গত মাসে যে আবাসন প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে, তাতে অন্য সব ব্যবস্থাপর পাশাপাশি বিতর্কিত ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রকল্প বাতিল এবং নতুন কোনো বাড়ির ক্ষেত্রে এয়ারবিএনবি-র লাইসেন্স দেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
এসব পদক্ষেপও স্বল্প মেয়াদে বাড়িভাড়া, বা বাড়ির মূল্য কমাতে ভূমিকা রাখবে না বলে মত সমালোচকদের।
‘বসবাসের জন্য বাড়ি’ আন্দোলনের পাশাপাশি আরও অনেকগুলো গোষ্ঠী শনিবারের বিক্ষোভের আয়োজক ছিল।
এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩৫ বছর বয়সী অঙ্কনশিল্পী দিয়েগো গুয়েরা বলেছেন, তিনি প্রতিদিনই লোকজনের আবাসন সংক্রান্ত সংকটের কাহিনী শুনছেন।
“কাজ করা লোজকন গৃহহীন হয়ে আছে। লোকজনকে তাদের বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, কারণ সেসব বাসাকে পর্যটকদের স্বল্পমেয়াদী আবাসনে রূপান্তর করা হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
কম বেতন আর বেশি বাড়িভাড়া লিসবনকে বসবাসের ক্ষেত্রে তৃতীয় অপছন্দনীয় শহরে পরিণত করেছে বলে বীমার দালালি করা প্রতিষ্ঠান সিআইএ ল্যান্ডলর্ডসের এক গবেষণা বলছে। পর্তুগালের এখনকার ৮ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করেছে।
“লিসবনে গড় মজুরির চেয়ে আমার বেতন বেশি হওয়া সত্ত্বেও ফ্ল্যাটের যে ভাড়া, আমিই ভাড়া নিতে পারছি না,” বলেছেন ইতালি থেকে যাওয়া সেলস এক্সিকিউটিভ নুনসিও রেনজি।

0 Comments
Please do not enter any spam link in the comment box.